বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের ভোটে জয়ী হওয়ার পর ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে যাবে। দেশের নব্বই শতাংশ চাঁদাবাজের হাত চিরতরে বন্ধ করা হবে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফেনী সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে ১০ দলের আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, “রাজার ছেলে রাজা হবে তা আমরা হতে দেব না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশ গড়ব। এই দেশে একজন রিকশাচালকও তার যোগ্যতায় এমপি বা মন্ত্রী হতে পারবে। আমরা চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, যেখানে আমাদের বোনদের ওপরও আঘাত করতে শাসকরা দ্বিধা করেনি।” শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করে তিনি বলেন, “সে বুক পেতে বলেছিল, ‘বুক পেতেছি, গুলি কর’। সে পালিয়ে যায়নি, বরং তার রক্ত আমাদের কাছে আমানত হয়ে গেছে। ওই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য ও ন্যায়বিচার, যা প্রতিষ্ঠা করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।”
প্রকৃতির ওপর জুলুম ও পরিবেশের অনিয়মের দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, “মাঘ মাসে শীত নেই, বর্ষায় বৃষ্টি নেই। কারণ, যারা দেশ পরিচালনা করেছে তারা প্রকৃতির ওপর অত্যাচার করেছে। মানুষের এই আচরণের মূল্য এখন পুরো জাতিকে দিতে হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “চাঁদাবাজরা বাজপাখির মতো কালো চেহারা ধারণ করে সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এর ফলে কৃষক, পরিবহণ মালিক ও খুচরা ব্যবসায়ী—সবার ক্ষতি হচ্ছে।”
জামায়াত আমির বলেন, “বর্তমানে প্রশাসনের অবহেলা বা ভাগ-বাটোয়ারার কারণে চাঁদাবাজি চললেও আগামীতে তা আর সহ্য করা হবে না। চাঁদাবাজ কার বাবা, কার মা বা কার সন্তান—তার কোনো বিচক্ষণতা দেখানো হবে না। আমরা নির্দয় ও কঠোর হব। যারা রাজনীতি করবে এবং চাঁদাবাজি করবে, তাদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে।”
জনসভায় ফেনী-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী এসএম কামাল উদ্দিন, ফেনী-৩-এর প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী-২ আসনের আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা কমিটির সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুক্তি আবদুল হান্নান। সমাবেশে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ফেনীতে ২৪ সালের ৪ আগস্ট হাসিনা সরকারের ক্যাডারদের গুলিতে নিহত ও আহত পরিবারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।





